Guides & Tips

ফোনের আয়ু বাড়াতে করুন এই ১০টি কাজ

নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করা

নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করলে ফোনের স্পিড ধরে রাখা যায় এবং সফটওয়্যার জটিলতা এড়ানো যায়। তাই সবসময় মোবাইলের সিস্টেম আপডেট করবেন এবং অন্যান্য অ্যাপ ও নিয়মিত আপডেট রাখবেন। এই আপডেটগুলো দিতে বেশি সময় লাগে না, তেমনি আপডেটের মাদ্ধমে বাগ ও নিরাপত্তা ত্রুটির মতো ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো এড়ানো যায়। এর পাশাপাশি ডিভাইসে যোগ হয় নতুন নতুন ফিচার, ডিভাইসের পারফর্মেন্সও আগের মতো বজায় থাকে।

আসল চার্জার ব্যাবহার করা

আমরা সকলেই জানি যে নকল চার্জার দিয়ে চার্জ দিলে স্মার্টফোনের ক্ষতি হয়। ফোনের ব্যাটারি কতটা দ্রুত চার্জ নেবে সেটাও নির্ভর করে চার্জারের উপর। নকল চার্জার দিয়ে চার্জ দিলে মোবাইল অনেক সময় গরম হয়ে যায়। এ থেকে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে। তাই ফোনের আয়ু বাড়াতে চাইলে সবসময় ব্যাবহার করুন ফোনের আসল চার্জার। আসল চার্জার চেনার উপায় গুলো হলোঃ

অ্যাপল আইফোন: বর্তমানে আইফোনের অনেক নকল চার্জার খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। আসল অ্যপল চার্জারের গায়ে ‘Designed by Apple in California’ কথাটি লেখা থাকে। নকল চার্জারে অ্যাপেলের যে স্টিকার থাকে সেটির রং কালো হয়। তাই কেনার আগে ভালভাবে দেখে কিনুন।


স্যামসাং: স্যামসাংয়ের আসল ও নকল চার্জার চেনা বেশ কঠিন। নকল চার্জার এর উপর একটি লেখা প্রিন্ট করা থাকে। A+ এবং Made in China লেখা বেশিরভাগ চার্জার নকলই হয়ে থাকে।

হুয়াওয়ে: হুয়াওয়ের আসল চার্জার চেনা সহজ। চার্জারের উপরের বারকোডটি স্ক্যান করুন। তথ্য মিলিয়ে দেখুন। মিলে গেলে সেটি আসল চার্জার। আর না মিললে সেটি নকল।


ওয়ান প্লাস: ওয়ান প্লাসের নকল চার্জার চেনা সহজ। ড্যাশ চার্জার দিয়ে আপনার ফোনটি চার্জ দিয়ে দেখুন। যদি ফ্ল্যাশ জ্বলে উঠে তাহলে এটি আসল। আর যদি দেখেন ফ্ল্যাশ না জ্বলে স্ক্রিনে শুধু চার্জিংয়ের সিগন্যালটি দেখাচ্ছে তাহলে বুঝে যান সেটি নকল।


শাওমি: চার্জারের ক্যাবলটি কত বড় মেপে নিন। যদি তা ১২০ সেন্টিমিটারের চেয়ে কম হয় এবং অ্যাডাপ্টরটি তুলনামূলক বড় হয়, তাহলে সেটি নকল। চার্জার সকেট বা মাল্টিপ্লাগে ঢোকানোর পর যদি ঠিকভাবে খাপ না খায় ধরে নিতে হবে এটি নকল।

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ এবং ফাইল ডিলিট করা

মোবাইলের র‌্যাম ক্ষমতার অধিক ব্যবহারের ফলে প্রায় অনেকেই স্মার্টফোন ব্যবহার করতে গিয়ে অসুবিধার ভেতর পড়ে যান। কারণ এর ফলে ফোনটি ধীর গতি হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে তা হ্যাং হয়ে পড়ে। তাই অপ্রয়োজনীয় অ্যাপসহ অন্যান্য ফাইলগুলো নিয়মিত ডিলিট করতে হবে। ফোনের স্টোরেজ এবং র‌্যাম এর কথা মাথায় রেখে অ্যাপ ডাউনলোড করা উচিত। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ এর ডাটা নিয়মিত; কমপক্ষে তিন দিনে একবার করে হলেও মুছে ফেলা যেতে পারে। এতে ফোনের স্টোরেজ সাশ্রয় হবে পাশাপাশি ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকা কাজের পরিমাণ ও কমে যাবে। এর ফলে আপনার মোবাইলে গতি আসবে এবং ফোনের আয়ুও বাড়বে।

ফোনের ব্যাটারি গরম করা এড়িয়ে চলা

ব্যাটারি হলো স্মার্টফোনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। আপনার সারাদিনের ফোন ব্যবহারের উপর নির্ভর করে এই ব্যাটারির কার্যকারিতা। ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে তথা ফোনটির আয়ু বাড়াতে ঘন ঘন ফোনের চার্জ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। চার্জ একদম শূন্যে নামিয়ে চার্জ দেওয়া উচিত। গরমের দিনে ফোনকে সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে সেখানে রাখা থেকে বিরত থাকুন। এছাড়াও অতিরিক্ত গেম খেলা, শুধু সময় অতিবাহিত করার জন্য ফোন ব্রাউজিং করা বাদ দেওয়া যেতে পারে।

ফোনের পাওয়ার ডাউন রাখা

কিছুদিন পরপর স্মার্টফোনটিকে কিছু সময়ের জন্য পাওয়ার অফ করে রাখা যেতে পারে। মোবাইল ও কিন্তু ল্যাপটপ কিংবা ডেস্কটপ কম্পিউটারের মতই একটি যন্ত্র, যেটির বিশ্রাম প্রয়োজন হয়। তাই সপ্তাহে অন্তত একবার ফোনকে কয়েক মিনিটের জন্য পাওয়ার অফ করে রাখুন। এতে করে ও আপনার ফোনের আয়ু বাড়বে।

স্ক্রিন প্রোটেক্টর ব্যবহার করা

ভাঙা স্ক্রিন স্মার্টফোন ব্যবহারের জন্য একটি বিরাট বাধা। ভাঙা স্ক্রিনে ফোন ব্যবহার করলে এটি আরও ক্ষতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই স্ক্রিন ভাঙা এড়াতে স্ক্রিন প্রোটেক্টর ব্যাবহার করা উচিত। এটি শুধু স্মার্টফোনকে সুরক্ষাই দেয় না, ফোনের টাচ কার্যকারিতাটিকেও সমুন্নত রাখে।

অব্যবহৃত অ্যাপগুলো ডিলিট করা

প্রত্যেক স্মার্টফোনেই স্টোরেজ ও মেমোরির সীমা আছে। অব্যবহৃত অ্যাপগুলো ডিলিট করে দিলে ফোনের স্টোরেজ বাঁচবে। আর ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে এমন অ্যাপ এর সংখ্যা ও কমে আসবে। এতে বাড়বে ফোনের আয়ু। আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড উভয়টিতেই অব্যবহৃত অ্যাপ ডিলিট করা একেবারেই সহজ কাজ। জাস্ট অ্যাপের আইকনে ট্যাপ করে ধরে রাখলেই পপ-আপ হিসেবে স্ক্রিনে চলে আসবে ‘রিমুভ অ্যাপ’ বা ‘আনইনস্টল’ অপশনটি।

ভালো কেইস ব্যবহার করুন

হাত থেকে পড়ে ফোনের ক্ষতি হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে প্রতিনিয়ত। তাই কিছু টাকা খরচ করে একটি ভালো মানের কেইস ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। তবে আবার বিলাসবহুল কেইস ব্যবহার করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। ডিভাইসটিকে আঘাত বা আকস্মিক দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে পারবে এমন মানসম্মত কেইস ব্যবহার করলেই চলবে।

পোর্টগুলো পরিষ্কার রাখুন

অনেক সময় কেইস ব্যবহার করার পরেও দৈনন্দিন ব্যবহারে ধুলা-বালি জমে স্মার্টফোনের স্ক্রিন ও পোর্টে। বিশেষ করে চার্জিং পোর্ট, মাইক্রোফোন, স্পিকার গ্রিল আর হেডফোন জ্যাকের মতো জায়গাগুলোতে বেশি ধুলা জমে। তাই মোবাইলের এই জায়গাগুলো পরিষ্কার রাখুন। টুথপিক এর সাথে তূলা ব্যবহার করে কাজটি সহজেই করা যেতে পারে। তবে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যে স্ক্রিন পরিষ্কারে ব্যবহৃত বস্তুটি যেন বেশি ভেজা না হয়।

ফোন বেশী গরম হয়ে গেলে ব্যবহার না করা

ফোনের ব্যাটারি তথা ফোন বেশী গরম হয়ে যায় এমন পরিস্থিতি এড়াতে পারলে আয়ু বাড়বে ডিভাইসের। প্রচণ্ড গরমের দিনে স্মার্টফোন সরাসরি রোদে রাখা যাবে না। কোনো কাজ করার সময় বা গেইম খেলার সময় ডিভাইস বেশি গরম গেলে বন্ধ করে রাখতে হবে। ব্যাটারির স্বাস্থ্য মাথায় রেখে ফোনের ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে দিন শেষে আয়ু বাড়বে মোবাইলের, উপকৃত হবেন ব্যবহারকারী।

টিপস

১. ফোন চার্জে দেয়ার সময় ফোনের সঙ্গে দেওয়া চার্জারটি ব্যবহার করুন। 

২. ফোনের ব্যাটারি ১০% বা ৫%  হলে চার্জ দিন।

৩. সম্পূর্ণ চার্জ হলে চার্জার খুলে ফেলুন।

৪. ফোন সারা রাত চার্জে রাখবেন না।

৫. ফোনের ব্যাটারি সেভার অপশনটি অন করে দিন।

৬.ফোনের ডিসপ্লে ব্রাইটনেস্ কমিয়ে রাখুন।

৭. ফোনের ডেটা প্রয়োজন মতো অন-অফ করুন।

Leave a Reply

Back to top button