Troubleshooting

ব্যাটারির চার্জ দ্রুত শেষ হওয়া থেকে বাচতে যা যা করবেন

ধরুন আপনি একটি জরুরি কাজ করছেন। এমন সময় স্মার্টফোনের চার্জ শেষ! এমন বিড়ম্বনায় হয়ত অনেককেই পড়তে হয়েছে। স্মার্টফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হওয়া কোন বিরাট সমস্যা নয়। এর কিছু সমাধান রয়েছে। এসব সমাধান মেনে চললে ফোনের ব্যাটারি অনেকটাই সাশ্রয় করতে সক্ষম হবেন।

ডার্ক মোড অন করুন 

ফোনের চার্জ সাশ্রয়ের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ডার্ক মোড চালু করা। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব, টুইটার সহ আরও যেসব অ্যাপে ডার্ক মোড অপশন রয়েছে সেগুলো ডার্ক মোড করে রাখুন। এতে ফোনের ব্যাটারি সাশ্রয় হবে। 

ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখুন 

অনেকে স্মার্টফোন এর ব্রাইটনেস অটোমেটিক দিয়ে রাখেন। এতে ফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হতে পারে। ফোনের চার্জ সাশ্রয়ের জন্য ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখাই ভালো। এতে ফোনের চার্জ সাশ্রয় হবে।

বার বার চার্জ না দেওয়া

অনেকেই ফোনে চার্জ থাকা সত্ত্বেও বার বার চার্জ এ লাগান। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। ফোনে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চার্জ দিন। কারণ একটানা অনেকক্ষন চার্জ দিয়ে রাখলে থাকলে ফোনের ব্যাটারি ক্ষয় হতে থাকে। 

থার্ড পার্টি অ্যাপগুলো বন্ধ করুন 

বিভিন্ন থার্ড পার্টি অ্যাপের কারণে ও চার্জ দ্রুত কমে যেতে পারে। স্মার্টফোনে এসব অ্যাপ বেশি থাকলে ম্যানুফ্যাকচারিং হতে থাকে। যার ফলে ফোনের চার্জ বেশি খরচ হয়। তাই যতটা সম্ভব থার্ড পার্টি অ্যাপ ডাউনলোড না করাই ভালো।

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ সরিয়ে ফেলুন 

অনেকে স্মার্টফোনে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ডাউনলোড করে রেখে দেন। এতে ফোনের স্টোরেজ কমার সঙ্গে সঙ্গে চার্জও কমতে পারে। তাই চার্জ সাশ্রয়ের জন্য ফোনে থাকা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ তারাতারি সরিয়ে ফেলুন। 

ফুল চার্জ হওয়ার পরেও প্ল্যাগ-অন রাখবেন না 

স্মার্টফোনের ফুল চার্জ হওয়ার পরেও প্ল্যাগ-অন করে রাখা মোটেই ভালো নয়। ১০০% চার্জ হয়ে গেলে চার্জার খুলে ফেলাই উত্তম। এতে ব্যাটারির ক্ষয় এড়ানো সম্ভব হবে।

ফ্লাইট-মোড অন করুন 

ফোনের চার্জ সাশ্রয়ের জন্য অনেক ব্যবহারকারী ফ্লাইট-মোডে রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এতে ব্যাটারির খরচ কম হয়।

অতিরিক্ত নোটিফিকেশন আসা:

স্মার্টফোনে বিভিন্ন ধরনের অ্যাপস ডাউনলোড করে রাখার ফলে একটু পর পর খালি নোটিফিকেশন আসে। অনেক অ্যাপ আবার নির্দিষ্ট সময় পর পর সার্ভার থেকে নতুন ‘পুশ’ নোটিফিকেশন পাঠায়। এই অ্যাপগুলো যখন নোটিফিকেশন পাঠায় তখন অটোমেটিক ভাবে এটি ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে। যা আপনার ফোনের চার্জ দ্রত করে।

চার্জে দেয়া অবস্থায় ফোন ব্যবহার করা:

অনেকেই  চার্জে লাগিয়ে স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। এমনকি চার্জে দেয়া অবস্থায় অনেকে গেইমও খেলেন। এর ফলে চার্জিং প্রক্রিয়া নষ্ট হয়। এর কারণে আপনার ফোনের ব্যাটারিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


ব্যবহারের পর অ্যাপস বন্ধ না করা :

অনেক সময় দেখা যায় আমরা অ্যাপস থেকে একবারে বের হয়ে যাই এবং সেটি বন্ধ করতে ভুলে যাই। যার কারণে সেটি ব্যাকগ্রাউন্ড এ চলতে থাকে এর কারনে ও দ্রুত চার্জ ফুরিয়ে যায়।

স্মার্টফোন পুরনো হয়ে গেলে:

আপনার স্মার্টফোন যদি বেশ পুরনো হয় তাহলে ব্যাটারি নিজ থেকেই কার্যক্ষমতা কমে যায়, এবং এটাই স্বাভাবিক। সাধারণত একটি ব্যাটারির গড় আয়ু ধরা হয় ২ বছর। এই সময়ের মধ্যে স্মার্টফোনের ব্যাটারির কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু ফোনের ব্যাটারির বয়স যখন ২ বছরের বেশি হয়ে যায় এর কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে।

ব্যাটারী গরম হয়ে গেলে

কখনো কখনো ফোনের ব্যাটারী অনেক বেশি গরম হয়ে যায় কিংবা খুব তারাতারি ১০০% হয়ে যায়। ব্যাটারী অনেক বেশি পুরনো হয়ে গেলে এমনটি হতে পারে। ব্যাটারীর চার্জারের কারণেও এমন হতে পারে। আবার চার্জার অথবা ক্যাবল ঠিক থাকলেও অনেক সময় ব্যাটারি গরম হয়ে যাওয়ার কারণে চার্জ ধীর গতি হয়। তখন চার্জ দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়া, স্মার্টফোন গরম হয়ে যাওয়া কিংবা অস্বাভাবিক হারে চার্জের পরিমাণ বাড়া-কমা করার মতো সমস্যা দেখা দেয় ।

ডিসপ্লের ব্রাইটনেস:

অনেক সময় দেখা যায় ফোনের ব্রাইটনেস যত টুকু থাকা দরকার তার থেকেও বেশি দিয়ে রাখেন যার কারণে এটি ব্যাটারির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফোনে দ্রুত চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ার পিছনে ডিসপ্লের ব্রাইটনেস ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

দুর্বল নেটওয়ার্ক সিগনাল:

দুর্বল নেটওয়ার্ক ফোনে চার্জ তারাতারি ফুরিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। অনেক সময় দেখা যায় কোন জায়গায় নেটওয়ার্ক অনেক দুর্বল। ঠিক একইভাবে যদি আপনার ওয়াইফাই সিগনালও দুর্বল হয় তাহলে সেটি আপনার ব্যাটারির কার্যকারিতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যার কারণে ফোনের চার্জ তারাতারি শেষ হয়ে যায়।

ওয়ারলেস কানেকশন, জিপিএস এবং অটো সিংক চালু থাকা :

ইন্টারনেট কানেকশন/ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, জিপিএস, লোকেশন, অটো সিংক (Sync) ইত্যাদি অপশনগুলো যদি আপনি সবসময় চালু করে রাখনে তাহলে ও আপনার ফোনের ব্যাটারির উপর চাপ পরবে এবং এর ফলে ফোনের চার্জ তারাতারি শেষ হয়ে যাবে।

আপনার ফোনে চার্জ র্দীঘক্ষন টিকিয়ে রাখতে যা যা করবেন

১। ফোনে Live wallpaper ব্যবহার করবেন না।

২। চার্জ 25% এর নিচে চলে আসলে ফোন চার্জ দিবেন।

৩। ফোনের ভাইব্রেশন বন্ধ রাখুন।

৪। চার্জে লাগিয়ে মােবাইল চালাবেন না।

৫। ফোনের Homescreen এ বেশি witgets ব্যবহার করবেন না।

৬। ফোনে অতিরিক্ত চার্জ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

৭। স্ক্রিন এর ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখুন প্রয়োজন এ বাড়ান।

৮। দূর্বল নেটওয়ার্কে ইন্টারনেট কানেকশন অফ রাখুন।

৯। জিপিএস অথবা লোকেশন অপ্রয়োজনে অফ করে রাখুন।

১০। যদি ফোনের ব্যাটারি অনেক পুরনো হয় তবে ব্যাটারি অবস্থা দেখে পরিবর্তন করা।

১১। ফোনের আসল চার্জার ব্যতীত অন্যান্য চার্জার ব্যবহার না করা। 

Leave a Reply

Back to top button