Guides & Tips

মোবাইল টাওয়ারের ক্ষতিকর দিক

মোবাইল টাওয়ারের অনেকগুলো ক্ষতিকর দিক রয়েছে। নিচে কয়েকটি ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হলোঃ

জনবসতির মধ্যে মোবাইল টাওয়ার যে বিকিরণ ছড়ায়, তার কুপ্রভাবও পড়ছে মানুষের মস্তিষ্ক ও হৃদ্যন্ত্রে। এছাড়াও অবসাদ, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা, ঝিমুনি ভাব, মনঃসংযোগে সমস্যা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া, মাথাব্যথা, হজমের ক্ষমতা কমে যাওয়া, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো নানান সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এমনকি মোবাইল ব্যবহার না করেও টাওয়ারের বিকিরণের শিকার হচ্ছে শিশু, বৃদ্ধ ও গর্ভবতীরা। এর কুপ্রভাব থেকে রেহাই পাচ্ছে না পশুপাখিরাও।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত বছরই এক সতর্কবার্তায় বলেছিল, মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ থেকে ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। দশ বছর ধরে ১৩টি দেশে করা তাদের এক সমীক্ষা বলছে, দিনে মাত্র এক-দু’ঘণ্টা মোবাইল ফোনে কথা বললেই গ্লিয়োমা (মস্তিষ্কের টিউমার) হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সেই সঙ্গে যত্রতত্র বসানো মোবাইল টাওয়ারগুলির বিকিরণও বিপদ ডেকে আনছে।

অবশ্য বাংলাদেশে সরকার এই ব্যাপারে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। মানবদেহের জন্য মোবাইল টাওয়ারের ক্ষতিকর দিক জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে একটি সমীক্ষা চালিয়ে চার মাসের মধ্যে বিষয়গুলো আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে।

সরকার কর্তৃক একটি আদেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, খোলা মাঠ, অফিস আদালত বা বাসা বাড়ির ছাদে ও জনসমাগম এলাকায় স্থাপিত মোবাইল টাওয়ার মানুষের জন্য কী ধরনের ক্ষতি করছে তা জানতে বিটিআরসিকে সমীক্ষা চালাতে বলা হয়েছে।

একইসাথে বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যানকে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির টাওয়ার পরিদর্শন করে রেডিয়েশনের বিষয়ে আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি গবেষণায় জানা গেছে এদেশে ব্যবহৃত টাওয়ারগুলোর রেডিয়েশনের মাত্রা আন্তর্জাতিক মাত্রার তুলনায় বেশি। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে টাওয়ারের রেডিয়েশনের বর্তমানে যে মাত্রা রয়েছে তা দশ ভাগের একভাগে কমিয়ে আনতে বলা হয়েছে।

এর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত মোবাইল কোম্পানির টাওয়ার থেকে নিঃসৃত রেডিয়েশন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সমীক্ষা করে দেশের টাওয়ারগুলোর ক্ষতিকর রেডিয়েশনের বিষয়ে আদালতকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Back to top button