Guides & Tips

মোবাইল ফোন কি হ্যাক হওয়ার কারণ ও তা প্রতিরোধের উপায়।

মোবাইল ফোন হ্যাক হওয়াটা বর্তমানে খুব কমন একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সবার অনলাইন অ্যাকাউন্টই কমবেশি হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সম্প্রতি সিএনএন হ্যাকিংয়ের হাত থেকে বাঁচার জন্য সাতটি মূল্যবান পরামর্শ প্রকাশ করেছে। মজার বিষয় হচ্ছে পরামর্শগুলো খোদ হ্যাকারদেরই দেওয়া। তাই এগুলো মেনে চললে আপনি অনলাইনে বেশ সুরক্ষিত থাকতে পারবেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

মোবাইল ফোন কি হ্যাক হওয়ার কারণ ও তা প্রতিরোধের উপায়।
মোবাইল ফোন কি হ্যাক হওয়ার কারণ ও তা প্রতিরোধের উপায়।

মোবাইল ফোন হ্যাক হওয়ার কারন

সব সময় মোবাইলের ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ চালু রাখলেঃ সব সময় মোবাইলের ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ চালু রাখলে আগে কোন কোন জায়গায় আপনি সক্রিয় ছিলেন হ্যাকাররা তা জানতে পারে।

ফলে আগের সেই নেটওয়ার্কের সূত্র ধরেই হ্যাকাররা প্রতারণার ফাঁদ পাতে। হ্যাকাররা নতুন নেটওয়ার্ক তৈরি করে আপনার ফোনকে আগের কোনো ওয়াইফাই বা ব্লুটুথ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য প্রলোভন দেখায়।

আপনি একবার এই নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়লে হ্যাকাররা আপনার ফোনে অসংখ্য ভাইরাস ঢুকিয়ে দেয় এবং আপনার অজান্তেই ফোন থেকে তথ্য চুরি, নজরদারির মতো কাজগুলো চালিয়ে যান।

তাই যখন প্রয়োজন থাকে না, তখনই ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ বন্ধ রাখুন।

টু-স্টেপ অথেনটিকেশন ব্যাবহার না করলেঃ গুগল একাউন্ট এ টু-স্টেপ অথেনটিকেশন বা দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবহার না করলে মোবাইল হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

টু-স্টেপ অথেনটিকেশন ব্যবহারকারীকে পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি আরও একটি কোড ব্যবহার করতে হয়। এতে অতিরিক্ত একটি স্তরের নিরাপত্তা পাওয়া যায়।

তাই যতক্ষণ হাতে আপনার কাছে মোবাইল ফোন থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত আর কেউ অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে না সেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

অ্যাপল, গুগল, ফেসবুক, ড্রপবক্সের মতো অনেক সাইটেই দুই স্তরের এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া রয়েছে। নতুন কোনো যন্ত্রে যখনই লগ ইন করতে যাবেন, তখন পাসওয়ার্ড দেওয়ার পর একটি গোপন কোড চাওয়া হবে।

এটি কেবল আপনার ফোনে তৎক্ষণাৎ পাবেন। যদি হ্যাকার আপনার পাসওয়ার্ড জানে, তবে আপনার মোবাইলে আসা কোড না জানা পর্যন্ত অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে পারবে না।

স্মার্ট পাসওয়ার্ড ব্যাবহার না করলেঃ যেসব ওয়েবসাইটে আপনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে, সেগুলোতে অক্ষর, চিহ্ন, সংখ্যা প্রভৃতি মিলিয়ে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। পাসওয়ার্ড জটিল করার চেষ্টা করুন।

প্রতিটি ওয়েবসাইটের জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করাই ভালো। পাসওয়ার্ড মনে রাখতে পাসওয়ার্ডটি কোথাও লিখে রাখুন। প্রতিবছর অন্তত একবার পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।

SSL Certificate ব্যাবহার না করলেঃ আপনার যদি কোন ওয়েবসাইট থাকে তাহলে প্রতিটি ওয়েবসাইট Ssecure রাখতে ssl certificate ব্যবহার করুন। আপনি যদি শুধু http ব্যবহার করেন, তবে যে কেউ আপনার ইন্টারনেট ব্রাউজের বিষয়ে নজরদারি করতে পারে।

ওয়াই-ফাই আড়াল নয়: রাউটার সেটিংসের সময় একটি লেখা আসে এরকম যে ‘হাইড দ্য এসএসআইডি?’ আপনি যদি আপনার ওয়াই-ফাইকে আড়াল করে রাখার জন্য ‘Yes’ এ ক্লিক করে দেন, তখন আপনার মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ হোম নেটওয়ার্ক খুঁজে পেতে সক্রিয়ভাবে স্ক্যান করতে থাকে।

সংযোগ পেলেও সব সময় নেটওয়ার্ক পাওয়ার জন্য আপনার মোবাইল স্ক্যান চালিয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একজন ওয়াই-ফাই হ্যাকার বলেন, ‘নিরাপত্তার কথা ভাবলে এসএসডি লুকানোর মাধ্যমে আপনি নিজেকে পাঁচ বছর পুরোনো প্রযুক্তির কাছে সমর্পণ করলেন।

ইন্টারনেট সুবিধার পণ্য কিনতে তড়িঘড়ি: বাজারে ইন্টারনেট সুবিধার কোন নতুন পণ্য এলে অনেকেই তা কেনার জন্য তড়িঘড়ি করেন।

প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রাইভেসি ও নিরাপত্তার বিষয়ে এত গুরুত্ব দেয় না। হ্যাকার স্ট্যানস্লাভ বলেন, ইন্টারনেট সুবিধার নতুন পণ্যগুলো নিরাপদ কি না, তা দেখে কেনা উচিত।

ওয়াই-ফাই সেটআপ: ওয়াই-ফাই সেটআপের সময় ডিফল্ট পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না। সিকিউরিটি এনক্রিপশন দেওয়ার বেলায় WP-2 নির্বাচন করে দিন।

বেশির ভাগ রাউটারে ওয়্যারড ইকুভ্যালেন্ট প্রাইভেসি (WP) বা ওয়্যারলেস প্রটেক্টেড অ্যাকসেস (WPA) ডিফল্ট আকারে দেওয়া থাকে। যেকোনো মূল্যে এটি বাদ দিয়ে WP-2 নির্বাচন করে দিন।

মোবাইল ফোন হ্যাক হওয়া থেকে বাঁচার উপায়সমূহ

  1. Google Play Store বাদে অন্যান্য অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকুন । iPhone ব্যাবহারকারী হলে অ্যাপল স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করুন।
  2. Connection not Secure লেখা ওয়েবসাইট এ প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকুন।
  3. একটি প্রিমিয়াম আন্টি ভাইরাস সফটওয়্যার ব্যাবহার করুন।
  4. কোন সন্দেজনক ওয়েবসাইটে প্রবেশ করবেন না।
  5. রাস্তাঘাটে ফ্রী wifi এ কানেক্ট হওয়ার থেকে বিরত থাকুন।
  6. গেম বা কোনো পেইড অ্যাপের mod apk অথবা nul version ব্যাবহার করবেন না।
  7. ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপে ফ্রী গিফট জাতীয় লিংক ওপেন করবেন না।

মোবাইল ফোন হ্যাক হওয়ার লক্ষণ

  1. কোন অ্যাপস চালাতে চালাতে হটাৎ হটাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া অথবা নিজে নিজেই ওপেন হয়ে যাওয়া।
  2. তাড়াতাড়ি মোবাইলের চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া।
  3. মোবাইলে এমন কিছু অচেনা প্রসেস চলবে যা আপনি আগে কখনো দেখেননি।
  4. ফোন স্লো হয়ে যাবে ও অপারেশন স্পিড কমে যাবে।
  5. ফোন স্বাভাবিক সময়ের থেকে বেশি গরম হবে।
  6. মোবাইল অটোমেটিক রি-বুট বা রিস্টার্ট হবে।
  7. অটোমেটিক নাম্বার ডায়েল হবে।
  8. কোন অচেনা নাম্বার রিসেন্ট কলে খুঁজে পাওয়া।
  9. ফোনে অপরিচিত টেক্সট মেসেজ খুঁজে পাওয়া।
  10. মোবাইল বন্ধ করতে চাইলেও অফ না হওয়া।
  11. ফোন কল চলাকালীন নয়েজ ও ইকো হওয়া।
  12. অদ্ভুত ওয়েবসাইট ব্রাউজার হিস্টোরিতে খুঁজে পাওয়া।
  13. স্মার্টফোনে বেশি ডেটা ইউজ হওয়া।
  14. নতুন নতুন Popup ad শো হওয়া।

Leave a Reply

Back to top button