Guides & Tips

মোবাইল ফ্লাশ করলে কি হয়

একটি মোবাইলকে সাধারনত দুটি অংশ থাকে। যার একটি হলো হার্ডওয়্যার এবং অন্যটি হলো সফটওয়্যার। ঠিক তেমনি একটি মোবাইলের যত সমস্যা আছে সেগুলোকেও দুটি ভাগেই ভাগ করা যায়। একটি হলো হার্ডওয়্যার জনিত সমস্যা এবং অন্যটি হলো সফটওয়্যার জনিত সমস্যা।

মোবাইলের এই সফটওয়্যার জনিত সমস্যা গুলো সমাধান করার জন্যই মূলত ফ্ল্যাশ টুল বা ফ্ল্যাশ বক্স ব্যবহার করা হয়। সফটওয়্যার সমস্যা ছাড়াও মোবাইলের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত পাসওয়ার্ড ভুলে গেলেও সেই সমস্যা সমাধানের জন্যও মোবাইল ফ্ল্যাশ করার প্রয়োজন হয়।

মোবাইল ফ্ল্যাশ কি

মোবাইল ফ্ল্যাশ করা মানে হলো মোবাইলের সকল সফটওয়্যার ডিলিট করে ফেলা এবং নতুন করে সফটওয়্যার ইন্সটল করা। মোবাইল ফ্ল্যাশ করলে মোবাইলের যাবতীয় সফটওয়্যার জনিত সমস্যা দূর করা সম্ভব।

মোবাইল ফ্ল্যাশ কত প্রকার

একটি ফোন ফ্ল্যাশ করার জন্য দুটি পদ্ধতি রয়েছে। একটি হলো পুরো ফ্ল্যাশ করা এবং অন্যটি আংশিক ফ্ল্যাশ করা। সম্পূর্ণ বা আংশিক ফ্ল্যাশ দেওয়ার উপর ভিত্তি করে ফোন পরিবর্তিত হয়।

আংশিক ফ্ল্যাশ করলে মোবাইলের কিছু অংশের পরিবর্তন হয়ে থাকে আর সম্পূর্ণ ফ্ল্যাশ করলে মোবাইলের আগের কোনো কিছুই আর থাকে না। মোবাইলটি একেবারে নতুন ফোনের মতো হয়ে যায়।

সম্পূর্ণ ফ্ল্যাশ মূলত আপনার ফোনের অপারেটিং সিস্টেম পরিবর্তন করে দেয়। আপনি যদি এই ধরণের ফ্ল্যাশ দেন তবে আপনার ফোনের সমস্ত তথ্য মুছে যাবে।

পুরো ফ্ল্যাশটির অর্থ আপনার ফোনে অপারেটিং সিস্টেম অন্য ভার্সনে আপগ্রেড করা বা সম্পূর্ণ নতুন মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমে পরিবর্তিত হতে পারে।

আপনার ফোনটি পুরো ফ্ল্যাশ করা হলে আপনার ফোনের ওয়্যারেন্টি অকার্যকর হয়ে যাবে এবং এটি আপনার ফোনে থাকা সিকিউরিটি ব্যবস্থার উপর ও প্রভাব পড়বে।

আপনার ফোনটি ফ্ল্যাশ করার আগে কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকলে সেগুলো ব্যাকআপ করতে ভুলবেন না।

মোবাইল ফোন ফ্ল্যাশ করলে কি হয়

যখন কোনো মোবাইল ফোন ফ্ল্যাশ করা হয় তখন ফোনের ফাংশন পরিবর্তন করার জন্য তার সফ্টওয়্যার সেটিংস পরিবর্তন করা হয়।

ফ্ল্যাশ করার কারণে ফোনের কী ক্ষতি হবে তা নির্ভর করবে ফোনটির মডেল এবং ফোনটি ফ্ল্যাশ করার জন্যে যে সফ্টওয়্যারটি ব্যবহার করা হয়েছে তার উপর।

মোবাইল ফোন ফ্ল্যাশ করার জন্য অনেক ধরনের সফটওয়্যার রয়েছে। একেকটি সফটওয়্যারের ফলে একেক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়ে থাকে।

কখন মোবাইলে ফ্ল্যাশ করতে হয়

লক খোলা, লক পরিবর্তন করা, প্যাটার্ন লক খোলা, কান্ট্রি লক খোলা, নষ্ট মোবাইল ঠিক করা ইত্যাদি কাজে মোবাইল ফোন ফ্ল্যাশ করা হয়ে থাকে।

মোবাইল ফ্ল্যাশ দিতে যা প্রয়োজন

  • একটি কম্পিউটার।
  • একটি ফ্ল্যাশ বক্স।
  • USB ক্যাবল।
  • USB ড্রাইভার সফটওয়্যার।
  • যেই মোবাইলটি ফ্ল্যাশ করব সেই মোবাইলের ফ্ল্যাশ ফাইল।
  • মোবাইল ফ্ল্যাশ ফাইল সংগ্রহ করা

যে মোবাইলটি ফ্ল্যাশ করতে হবে সেই মোবাইলের নাম এবং মডেল লিখে গুগলে সার্চ দিলে অনেক ফ্ল্যাশ ফাইল পাওয়া যায়। তবে এসব ফাইল ডাউনলোড করে ফ্ল্যাশ দিলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার হতে পারে।

এমনকি মোবাইল ফোন নষ্টও হয়ে যেতে পারে। তাই ট্রাস্টেড ওয়েবসাইট থেকে পেইড ফাইল কিনে ফ্ল্যাশ দেওয়াটাই উওম।

মোবাইল ফ্ল্যাশ কিভাবে দেওয়া হয়

আপনি যদি নিজেই আপনার মোবাইল ফোনটি ফ্ল্যাশ দিতে চান তাহলে নিম্নোক্ত উপায়ে আপনি সেটি করতে পারেন। খুব সহজেই কিভাবে একজন মোবাইল ফ্ল্যাশ দিতে পারে তা বিস্তারিত দেওয়া হলো-

ধাপ ১

প্রথমে আপনার কম্পিউটারে একটি ফ্ল্যাশ সফটওয়্যার ডাউনলোড করে নিন। সফটওয়্যার ডাউনলোড করার পূর্বে নিশ্চিত হয়ে নিন যে সফটওয়্যারটি আপনার কম্পিউটারে সাপোর্ট করবে কি না। নইলে সফটওয়্যারটি কাজ করবে না।

ধাপ ২

আপনি যে জিপ ফাইলটি ডাউনলোড করেছেন জিপ ফোল্ডার থেকে “আনজিপ” করুন এবং এটি আপনার কম্পিউটারে সেভ করুন।

ধাপ ৩

আপনার ফোনের সাথে থাকা ইউএসবি ক্যাবল দিয়ে কম্পিউটারের সাথে আপনার মোবাইল ফোনটি কানেক্ট করুন

ধাপ ৪

আপনার সফ্টওয়্যারটির সাথে থাকা ইউজার ম্যানুয়ালটি পড়ুন, সাধারণত এখানে একটি “Read Me”নামক টেক্সট ফাইল থাকবে সেখানে সফ্টওয়্যারটি কীভাবে ব্যবহার করতে হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া থাকবে।

সেই অনুযায়ী ফ্ল্যাশ সম্পন্ন করুন।

ধাপ ৫

আপনার ফ্ল্যাশ করা শেষ হয়ে গেলে “Start” বাটনে ক্লিক করুন, তারপর “My Computer” এ যান এবং “System Task” নির্বাচন করুন। “View system information” অপশনে ক্লিক করুন। “Hardware” ট্যাবটি নির্বাচন করুন এবং”Device Manager”এ ক্লিক করুন।

আপনার ফোনটি দেখার জন্য “USB controllers and ports” এ ক্লিক করুন এবং নিশ্চিত করুন যে আপনার নতুন সরবরাহকারী একটি সফল ফ্ল্যাশের প্রমাণ হিসাবে প্রদর্শিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Back to top button