Guides & Tips

কল অব ডিউটি মোবাইল games

Call of Duty বর্তমানে জনপ্রিয় FPS গেমগুলোরর মধ্যে একটি। ২০০৩ সালে প্রথম এই গেম তার যাত্রা শুরু করে। তখন এই গেমটি ২য় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে তৈরি হলেও পরবর্তীতে Infinity Ward, Sledgehammer Games এবং Treyarch Studios বর্তমান সময়ের বিভিন্ন ঘটনা দিয়ে এই গেমের কাহিনী গঠন করে।

তো আজকে কথা বলবো এই গেমটির সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় সিরিজ Call of Duty: Modern Warfare নিয়ে। Call of Duty: Modern Warfare প্রথম রিলিজ হয় ২০০৭ সালে। এরপর তারা আবার ২ বছর পর ২০০৯ এবং ২০১১ সালে Modern Warfare 2 and Modern Warfare 3 রিলিজ করে। Modern Warfare 3 রিলিজের ৫ বছর পর Modern Warfare এর প্রথম গেমের রিমাস্টার এডিশন বের করা হয়।

কল অফ ডিউটি কিন্তু Free কোন গেমস নয়। কিন্তু কল অফ ডিউটির মোবাইল ভার্সনটি ফ্রিতে রিলিজ করা হয়েছিল কিছুদিন আগে। যেটি মাত্র ১ সপ্তাহের মাথায় আড়াই মিলিয়নের বেশি ডাউনলোড হয়েছে। নস্টালজিক এই কল অফ ডিউটির গ্রাফিক্স ও গেমপ্লে নিয়ে মোবাইল ভার্সনটি গ্লোবালি অক্টোবর এর ১ তারিখে রিলিজ পায়।

কল অফ ডিউটি গেম খেলার জন্য অবশ্যই অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন ৫.১ হতে হবে। পিসিতে এমুলেটর ব্যাবহার করে খেললে এমুলেটর OS ভার্সনটি যেন অ্যান্ড্রয়েড ললিপপ বা এর উপরের হয় সেটা খেয়াল রাখতে হবে। আর আইফোন এর ক্ষেত্রে iOS 9 বা এর উচ্চ ভার্সনটির দরকার পড়বে।

এই গেমটি মোবাইলে স্মুথভাবে খেলতে হলে মোবাইলে নুন্যতম ৩ গিগাবাইট র‌্যামের প্রয়োজন। তবে ৪ গিগাবাইট হলে আরো ভালো। আর প্রসেসরের কথা বলতে গেলে নুন্যতম Snapdragon 660 প্রসেসর হতে হবে। Antutu স্কোর ৬৫ হাজার হলে ভালো।

তবে এখানে উল্লেখ্য যে আপনার ডিভাইসের Antutu স্কোর ৬৫ হাজার এবং ৩ গিগাবাইট র‌্যাম থাকলে গেমটির শুধু 5vs5 মোডটিই খেলতে পারবেন এবং FPS ৩০ এর মধ্যেই থাকবে। তবে গেমটির ব্যাটল রয়্যাল খেলতে হলে অবশ্যই আপনার মোবাইলের Antutu স্কোর ১ লাখের উপরে হতে হবে আর ৪ গিগাবাইট র‌্যামের প্রয়োজন হবে।

কল অফ ডিউটি মোবাইল গেমটির কয়েকটি খারাপ দিক হলোঃ

Micro transaction

এই বিষয়টি আপনারা অনেকেই জানেন। যেকোনো ফ্রি গেমেই micro transaction থাকে। এর মানে হলো আপনাকে গেমের প্রিমিয়াম ফিচারসগুলো টাকা দিয়ে কিনতে হবে। কারণ ফ্রি গেমে ডেভেলপারদের ”আয়ের” অন্য তম উৎস্য হচ্ছে এটি। পাবজি, ফ্রিফায়ার, Asphalt 9 সহ সব পপুলার গেমেই এই সিস্টেমটি আছে। আপনি যখন টাকা খরচ করে গেমের কোনো প্রিমিয়াম ফিচার আনলক করে থাকেন তখন সেটাকে Micro transaction বলা হয়। যেমনটি আপনি করেন পাবজিতে, ফ্রিফায়ারে ব্যাটল পাস / রয়্যাল পাস কিনে।

যারা কল অফ ডিউটির খুবই ভক্ত রয়েছেন তারা তো অনেকেই micro transaction এর ফাঁদে পড়ে যাবেন। কারণ এর ইউনিক ক্যারেক্টার, অস্ত্রের স্ক্রিণ এবং অনান্য আইটেমগুলোকে খুবই আকর্ষণীয় মনে হয়। এই গেমটির ফাইনাল সংষ্করণে micro transaction খুবই বেশি দেখা গিয়েছে। গেমটিতে ব্যাটল পাস, কয়েক ধরণের স্টোর, Ad দেখা ইত্যাদি রয়েছে। আর গেমে লগ ইন করলেই ৩/৪ ধরণের ইন-গেম বিজ্ঞাপন রয়েছে সেগুলোতে আপনাকে বিভিন্ন জিনিস কেনার জন্য বলা হবে। প্রয়োজন না হলে কিনার দরকার নেই। এগুলো থেকে একটু বেঁচে থাকবেন !

মাল্টিপ্লেয়ার ম্যাচ কোয়ালিটি

মাল্টিপ্লেয়ার ম্যাচ খেলার সময় গেমটিতে আপনি কোনো ধরণের Matchmaking সিস্টেম দেখতে পাবেন না। Region Lock ফিচারটি এখনো গেমটিতে আসে নাই। আপনি যদি মনে করেন গেমটি আপনার স্কিল এর ভিত্তিতে Region হিসেবে ম্যাচ দিচ্ছে তাহলে আপনি ভূল! কারণ একটি ম্যাচে ঢুকলেই আপনি দেখবেন যে ম্যাচে চাইনিজ, জাপানিজ, ইন্ডিয়ায়, রাশিয়ান ইত্যাদি মিশ্র প্লেয়ার রয়েছে। আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে Ping! কারণ সবাই তো আর WiFi দিয়ে খেলে না। তাই একএক প্লেয়ারের Ping এক এক রকম হয়ে থাকে। আর নেটওর্য়াক ল্যাগ তো রয়েছেই গেমটিতে!

কনট্রোল সিস্টেম

আমার মতে এই গেমের কনট্রোল সিস্টেম অন্যান্য গেমগুলো থেকে কিছুটা রাফ এবং টাফ। তাই নিজের মতো কাস্টমাইজেশন না করে খেলা শুরু করলে এই কনট্রোল সিস্টেমে খেলা প্রায় দূরহ একটি ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। গেমটিতে দুটি কনট্রোল সিস্টেম রয়েছে। একটিতে আপনি অটো ফায়ার করতে পারবেন। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র শত্রু দেখা গেলেই কেবল আপনার অস্ত্র এবং ছুড়ি চলবে, এবং এখানে আপনাকে Aim এর জন্য আলাদা স্কোপ দেওয়া হবে। আর Aim না করে মারলে ভালো ডেমেজ পাবেন না। একবার Aim করে নিলে আবারো ট্যাপ করে Aim ছুঁটাতে হয়। অন্যদিকে বিশেষ অস্ত্রগুলো যেমন পাওয়ার আপসগুলো ব্যবহার করতে গেলে আবার ম্যানুয়াল Aim এবং ফায়ারের প্রয়োজন হয়।

দ্বিতীয় কনট্রোল সিস্টেমটি একটু জটিল। এখানে আপনাকে নিজে থেকেই Aim এবং ফায়ারিং করতে হবে। তবে প্রথমে কয়েকটি ম্যাচ খেলে ফেললে আপনার অভ্যাস হয়ে যাবে। গেমটিতে কিন্তু কোনো Inverted সিস্টেম নেই, তাই যারা ইনভার্ট করে খেলেন তাদের জন্য এই গেমটি খেলতে খুবই সমস্যা হবে।

শর্টকাট মাল্টিপ্লেয়ার

কল অফ ডিউটি মোবাইল গেমটির মাল্টিপ্লেয়ার সেকশনটি একটু শর্টকাট এবং দ্রুতগতি হিসেবে সাজানো হয়েছে। যারা লংটাইম ম্যাচ খেলতে পছন্দ করেন তাদের কাছে আবার এটা পছন্দ হবে না। কারণ র‌্যাঙ্ক এবং নরমাল দুটি মোডেই আপনি 5 vs 5 প্লেয়ার পাচ্ছেন। আবার ম্যাপগুলোর সাইজও তেমন বড় নয়। কিন্তু যারা কল অফ ডিউটির ভক্ত রয়েছেন তাদের জন্য পিসির গেমটি মোবাইলে চলে আসাটাই বড় কথা।

TDM মোডে র‌্যাঙ্ক ম্যাচে মাত্র ৪০ স্কোর আর নরমাল ম্যাচে ৫০ স্কোর লিমিট দিয়ে রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র SND বা সার্চ এন্ড ডেসট্রয় মোডে আপনি একটু লংটাইম ম্যাচ খেলতে পারবেন। বাকি ম্যাচগুলো খেলতে মাত্র ২ থেকে ৩ মিনিট সময় লাগবে।

গেমটির কিছু ভালো দিকগুলো হলোঃ

হাই ফাই ব্যাটল রয়্যাল!

কল অফ ডিউটির ব্যাটল রয়্যাল মোডটি বেশ দারুণ। এটা মোবাইল ব্যাটল রয়্যাল Genre তে একটি আলাদা রুপ নিয়ে আসে। Apex Legend গেমটির কোনো মোবাইল ভার্সন আসলে সেটা এরকমই হতো। গেমটির ব্যাটল রয়্যাল ম্যাপটি বেশ বড় এবং একশনে ভরপূর। মোবাইলে যদি হাই গ্রাফিক্স দিয়ে গেমটির ব্যাটল রয়্যাল মোডটি আপনি ভালো FPS দিয়ে খেলতে পারেন তাহলে আপনার কাছে গেমটি মোবাইল গেম বলে মনে হবে না। মনে হবে, আপনি পিসিতেই কোনো ব্যাটল রয়্যাল গেম খেলছেন।

ডাইনামিক অডিও সিস্টেম

কল অফ ডিউটি মোবাইল গেমটির অডিও সিস্টেম খুবই চমৎকার। ব্যাটল রয়্যাল এবং মাল্টিপ্লেয়ার দুটি সিস্টেমেই গেমটির অডিও একদম টপ নচ লেভেলের। আপনি মোবাইল স্পিকারে এনিমির Footstep খুবই চমৎকার ভাবে শুনতে পারবেন, আর বড় হেডসেট থাকলে তো কোনো কথাই নেই। ব্যাটল রয়্যালে দূর থেকে গুলির আওয়াজ শুনেই বুঝতে পারবেন কোন দিক থেকে শব্দ আসছে, আর আলাদা করে আপনাকে ম্যাপের দিকে নজর দিতে হবে না।

Free to Play!

আপনি যদি কল অফ ডিউটি সিরিজের দিকে তাকান তাহলে দেখবেন যে কল অফ ডিউটি সিরিজের কোনটাই ফ্রিতে রিলিজ করা হয় নি। শুধুমাত্র মোবাইল ভার্সনেই কেবল আপনাকে কোনো টাকা খরচ করতে হবে না। গেমটিতে ১ পয়সাও খরচ না করে আপনি বেশ ভালো ভাবেই ক্যারিয়ারে আগাতে পারবেন, তবে এ জন্য আপনাকে অনেক ধৈর্য নিয়ে গেমটি খেলতে হবে। বিশেষ করে প্লেয়ার লেভেল আপ করার জন্য দিনে কমপক্ষে ৫০-৭০টি মাল্টিপ্লেয়ার ম্যাচ আপনাকে খেলতে হবে। ১০০ লেভেলের উপরে গেলেই গেমটির অধিকাংশ অস্ত্র এবং আইটেম আপনি আনলক করে ফেলতে পারবেন এবং তখনই গেমটি খেলে আপনার ভালো লাগবে।

Leave a Reply

Back to top button