Software & Apps

Google Maps-এর সেরা 5 টি ট্রিকস

বর্তমানে Google Maps বহুল ব্যবহৃত এবং জনপ্রিয় একটি অ্যাপ। কোনো একটি নতুন জায়গার সন্ধান পেতে আমরা আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা না করে “Google Maps”কেই বেছে নিই। কারণ নানা লোকে নানারকম তথ্য দিলেও, এই অ্যাপ কিন্তু ভুল তথ্য দেয় না।

গুগল ম্যাপস-এর কারণে পৃথিবীর কোন প্রান্ত এখন আর অচেনা নেই! যেখানেই যেতে চাই না কেন, ম্যাপে সার্চ করলেই সাথে সাথে বের করে দেবে পথ, কীভাবে যেতে হবে সবকিছু! বিশ্বজুড়ে গুগল ম্যাপস জনপ্রিয় হলেও আমাদের দেশে এখনও অনেকে এর ব্যাবহার জানেনা। চলুন তাহলে আজ জেনে নেওয়া যাক Google Maps এর ৯টি চমৎকার টিপস যা ব্যবহারে আপনি ও Google Maps পারদর্শী হয়ে উঠতে পারবেন।

একনজরে এই ৯ টি টিপস দেখে নিন।

  • ট্রিপগুলো লিস্ট করুন।
  • প্রায় যাওয়া হয় এমন জায়গাগুলিকে পিন করুন।
  • মিউজিক কন্ট্রোল করুন।
  • লোকেশন শেয়ার করা।
  • রেস্তোরার সাজেশন পাওয়া।
  • যানজটের হালচাল জানা।
  • Lite Mode এর ব্যাবহার।
  • ইন্টারনেট ছাড়াই চালানো যাবে গুগল ম্যাপস।
  • যেকোন জায়গার দূরত্ব মাপার সুযোগ।
  • কোথায় আছেন তা প্রতিমুহূর্তে জানিয়ে দেওয়ার সুযোগ।

১। ট্রিপগুলো লিস্ট করুন

গুগল ক্যালেন্ডার বা রিমাইন্ডার যেমন আপনার পরের ফ্লাইটের ডেট বা মিটিংয়ের সময় মনে করিয়ে দেয়, ঠিক তেমনি গুগল ম্যাপেও আপনি পেতে পারেন একই সুবিধা। সেজন্য আপনাকে সবার আগে google maps ওপেন করে নীচের “Saved” ট্যাবে ক্লিক করতে হবে। এরপর স্ক্রল ডাউন করে “Reservations” ক্লিক করতে হবে। যার ফলে একটা নতুন পেজ ওপেন হবে সেখানে আপনার সমস্ত ট্রিপ প্ল্যান, ফ্লাইট ডিটেলস, হোটেলের রিজার্ভেশন সহ যাবতীয় তথ্য লিস্ট করে রিমাইন্ডার দিয়ে রাখতে পারেন। পরবর্তীতে সময় মতো আপনাকে নটিফিকেশন এর মাদ্ধমে জনিয়ে দেওয়া হবে।

২। প্রায় যাওয়া হয় এমন জায়গাগুলিকে পিন করে রাখুন

অচেনা শহরের এমন জায়গা যেখানে আপনার মাঝেমাঝেই যেতে হয়, সেগুলিকে পিন করে রাখুন। এতে করে এই জায়গাগুলিকে তাড়াতাড়ি খুঁজে পেতে সুবিধা হবে। এর জন্য google maps ওপেন করে “Bring Up Directions” বাটনে ক্লিক করে স্ক্রিনের নীচের দিক থেকে পিন নামের অপশনটি খুঁজে বের করুন। এরপর অ্যাপের মেইন স্ক্রিন থেকে “Go tab” বাটনে ক্লিক করুন। দেখবেন এই অ্যাপটি আপনার কিছুদিনের মধ্যে থাকা সমস্ত ট্রিপগুলোর ওপর ভিত্তি করে বেশ কয়েকটি জায়গা সাজেস্ট করবে। আপনি যে জায়গায় যেতে চাইছেন তা যদি সাজেশনের লিস্টে খুঁজে পান, তাহলে পুশ পিন অপশনে ক্লিক করে জায়গাটিকে পিন করে নিন।

৩। মিউজিক কন্ট্রোল করুন

Google maps এর সাহায্যে আপনি সরাসরি ফোনের মিউজিক কন্ট্রোল করতে পারেন। এর জন্য আপনাকে ম্যাপস এর সেটিংস অপশনে যেতে হবে। তারপর “Navigation Settings” অপশন সিলেক্ট করতে হবে। এরপর “Assistant default media provider” বাটনে ক্লিক করলে অনেকগুলো অপশন শো করবে। সেখান থেকে মিউজিক সার্ভিস সিলেক্ট করে নিলে তা অ্যাপের নেভিগেশন ইন্টারফেসে শো করবে।

৪। লোকেশন শেয়ার করা

গুগল ম্যাপের সাহায্যে নিজের লাইভ লোকেশন শেয়ার করা যায়। এর জন্য আপনাকে ম্যাপে যে নীল রঙয়ের লোকেশন ডট দেখায় তাতে ক্লিক করে মেনু থেকে “Share Location” অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে। এর ফলে যে লিঙ্ক তৈরি হবে তা অন্য ইউজারের কাছে শেয়ার করে দিন। একটা নির্দিষ্ট টাইম লিমিট পর্যন্ত আপনার লাইভ লোকেশনকে শো করবে।

৫। রেস্তোরার সাজেশন পাওয়া

পছন্দের কোনো খাবার খেতে চাইলে গুগল ম্যাপ আপনাকে দেবে উপযুক্ত রেস্তোরার সন্ধান। এ জন্য ম্যাপের ওপরে ‘Restaurants’ নামের অপশনে ক্লিক করতে হবে। এর ফলে ডিসপ্লেতে যে অপশনগুলি দেখা যাবে তার মধ্যে থেকে যেকোন একটিকে সিলেক্ট করতে হবে। এর ফলে আপনি বিভিন্ন খাবারের টাইম আওয়ার, মেনু দেখতে পারবেন। পাশাপাশি ওপরের বাম দিকে “Control” আইকনে ক্লিক করে পছন্দ মতো ফিল্টার অ্যাড করতে পারবেন

৬। ম্যাপেই জেনে নাও যানজটের হালচাল!

Google Map এর মাদ্ধমেই যদি জেনে নেওয়া যায় কোন রাস্তায় জ্যাম আছে আর কোন রাস্তা ফাঁকা, তাহলে ব্যাপারটা কেমন হবে? অবশ্যই দারুণ হবে। আর সে সুযোগটিই করে দিয়েছে গুগল ম্যাপস। তারা লাইভ ট্রাফিক নামে একটি ফিচার এনেছে যার সাহায্যে জানা যাবে যানজটের হালচাল। এটি উন্নত বিশ্বে সেই ২০০৭ সাল থেকে চালু থাকলেও বাংলাদেশে চালু হয়েছে সম্প্রতি।

এটি ব্যবহার করতে ম্যাপের মেনু থেকে ‘রিয়্যাল টাইম ট্রাফিক’-এ ক্লিক করে ‘ট্রাফিক’ অপশনে গিয়ে ‘লাইভ ট্রাফিক’ থেকে ‘টিপিক্যাল ট্রাফিক’ করে নিন।

ট্রাফিক অপশনটি চালু হলে ম্যাপে রাস্তার ওপরে সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল রং দেখতে পাবে। সবুজ রঙ দেখা গেলে বুঝতে পারবে সে রাস্তায় এখন জ্যাম নেই। কমলা রঙ দেখা গেলে মাঝারি জ্যাম আর লাল রঙ থাকলে বুঝে নিতে হবে কঠিন যানজট, সে রাস্তা দিয়ে না যাওয়াই ভালো।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে রাস্তার জ্যাম এর খবর গুগল কীভাবে বের করে? গুগল সে খবর বের করতে “ক্রাউড সোর্সড ডাটা” ব্যবহার করে থাকে। অর্থাৎ রাস্তায় যত মানুষ যানবাহনে চলাচল করছে তাদের ফোনে যদি লোকেশন সার্ভিস অন করা থাকে তাহলে গুগল সেগুলো থেকে ট্রাফিকের ডাটা সংগ্রহ করে ইন্ডিকেটর তৈরি করে।এর মাধ্যমে গুগল রাস্তায় থাকা গাড়ির সংখ্যা, কত দ্রুত গাড়িগুলো চলছে সেগুলো হিসেব করে জানিয়ে দেয় জ্যামের খবারখবর।

৭। কম খরচে গুগল ম্যাপস ব্যবহার: Lite Mode

ফেসবুকের যেমন রয়েছে ফেসবুক লাইট, কিংবা অপেরা মিনি, ইউসি মিনি, সেরকম, গুগল ম্যাপের ও লাইট ভার্সন আছে। এটির নাম গুগল ম্যাপ লাইট। আপনি ওয়াইফাই অথবা মোবাইল ডেটা যেটাই ব্যবহার করেন না কেন, ম্যাপ চালাতে ডাটা তেমন একটা খরচ হবে না, কিন্তু আসল ম্যাপের সবগুলো সুবিধাই মোটামুটি উপভোগ করতে পারবেন!

৮। ইন্টারনেট ছাড়াই যেভাবে চালাবে গুগল ম্যাপস

জি, সত্যিই এখন ইন্টারনেট ছাড়াই গুগল ম্যাপ ব্যাবহার করা যাবে। আর এটি সম্ভব হবে যদি আপনি ওই এলাকার ম্যাপ আগে থেকেই ডাউনলোড করে রাখেন। একবার একটি এলাকার ম্যাপ ডাউনলোড করে রাখলে পরবর্তীতে কোনরকম ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই জেনে নেওয়া যাবে সেই এলাকার রাস্তাঘাট সবকিছু। তাই পরেরবার আপনি কোথাও বেড়াতে গেলে আগে থেকেই সেই এলাকার ম্যাপ ডাউনলোড করে রাখতে পারেন। ফলে যেখানেই যান না কেন- পাহাড়-পর্বত, গহীন জঙ্গল কোথাও হারিয়ে যাবার ভয় আর থাকবে না!

৯। যেকোন জায়গার দূরত্ব মাপার সুযোগ

আপনি কি জানেন গুলিস্তান থেকে গুলশানের দূরত্ব কতো? কিংবা আপনার বাসা থেকে গ্রামের বাড়ির? ভাবতে কঠিন শোনালেও আপনি চাইলে নিমেষেই এটি বের করে ফেলতে পারেন গুগল ম্যাপস এর সাহায্যে। এজন্য আপনাকে প্রথমে যেখান থেকে দূরত্ব মাপতে চান সেই লোকেশনে ড্রপ পিন দিয়ে হোল্ড করতে হবে। তারপর ড্রপ পিন এ চাপ দিলে কতগুলো অপশন আসবে, সেখান থেকে “Measure Distance” এ ক্লিক করলেই আপনি দূরত্ব মাপতে পারবেন।
১০। কোথায় আছো প্রতিমুহূর্তে জানিয়ে দেওয়ার সুযোগ

গুগল ম্যাপস-এর “Share your location in real time” নামের ফিচারটি ব্যবহার করে আপনি যাকে খুশি জানাতে পারবেন আপনি এখন কোথায় আছেন। সেজন্য মেনু থেকে Share Location এ ক্লিক করুন। তারপর ডিউরেশন সিলেক্ট করে গুগল কনট্যাক্ট থেকে যাকে যাকে জানাতে চান সেটি সিলেক্ট করলেই তাদের সাথে লোকেশন শেয়ার করতে পারবেন।

Leave a Reply

Back to top button